আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২ অক্টোবর ২০২৬
মাঝআকাশে বিমান ক্র্যাশের চেষ্টা রুখে দিয়ে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন ফ্লাইদুবাই এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটের ১৭৪ জন আরোহী। দুবাই থেকে তেল আবিব যাওয়ার পথে ককপিটের ভেতরেই এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা ছিল।
ফ্লাইটটি যখন মাঝআকাশে, তখন হঠাৎ করেই কো-পাইলট মূল পাইলটের ওপর ছুরি নিয়ে চড়াও হন। ককপিটে দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির মাঝেই বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি মাত্র দুই মিনিটে প্রায় ১৭,৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। বিমানে থাকা যাত্রীরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই জীবনের শেষ মুহূর্ত ধরে নিয়ে প্রার্থনা শুরু করেন।
বিমানের এই আকস্মিক পতন টের পেয়ে কেবিন ক্রু এবং কয়েকজন সাহসী যাত্রী দ্রুত ককপিটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তারা আক্রমণকারী কো-পাইলটকে জাপটে ধরে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর অন্য একজন ক্রু সদস্য বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে স্থিতিশীল করেন।
সৌদিতে জরুরি অবতরণ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন
জরুরি অবতরণ: রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত পাইলটকে চিকিৎসা দিতে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা: মানবিক কারণে সৌদি আরব দ্রুত এই অবতরণের অনুমতি দেয় এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
নিরাপদ গন্তব্য: তাবুকে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর বিমানটি আবারও উড়ে যায় এবং নিরাপদে ইসরায়েলের বেন গুরিওন বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যাত্রীদের ‘বীর’ আখ্যা দিয়ে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তদন্ত শুরু করেছে। মাঝআকাশে বিমান ক্র্যাশের চেষ্টার এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।