আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার বিষয়ে সম্প্রতি একটি দেওয়ানি মামলা হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতা মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কর্নেলের চি ফাই ফ্র্যাটারনিটির কয়েকজন সদস্য ওই তরুণীকে অ্যালকোহল, গাঁজা ও কেটামিন দেওয়ার পর তিনি অক্ষম অবস্থায় পৌঁছালে তাকে যৌন নির্যাতন করেন। মামলায় সাতজন ফ্র্যাটারনিটি সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর নিউইয়র্কের টম্পকিন্স কাউন্টির প্রসিকিউটররা মামলাটির ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরু করেছেন। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে এ ঘটনায় বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কর্নেলের স্টুডেন্ট অ্যাসেম্বলির আয়োজিত এক উন্মুক্ত শুনানিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ের ৩৫ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, কর্নেলে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তারা বলপ্রয়োগ বা অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে সম্মতিবিহীন যৌন সংস্পর্শের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২১ সালের জরিপে এই হার ছিল ২০ শতাংশ।
তবে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ করেছে যে তারা ঘটনাটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি, এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার ব্যাপক তদন্ত করা হয়েছিল, চি ফাই ফ্র্যাটারনিটিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের কারণে সব শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে স্টুডেন্ট অ্যাসেম্বলি সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। এতে ঘটনার তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে যৌন অসদাচরণের ঘটনায় নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি এখন শুধু কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নিউইয়র্কে মাদক বা অ্যালকোহলের কারণে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যৌন অপরাধের আইন পরিবর্তনের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।
#কর্নেলবিশ্ববিদ্যালয় #যুক্তরাষ্ট্র #যৌনসহিংসতা #নিউইয়র্ক #CornellUniversity #NewYork #CampusSafety
